মঙ্গলবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১লা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

মঙ্গলবার১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ১লা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

জুলাই অভ্যুত্থান

বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৫ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ

বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস

২০২৪ সালের জুলাই মাস। বাংলাদেশের ইতিহাস আরেকবার লেখা হলো রক্তের অক্ষরে। ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে হঠাতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল ছাত্র-জনতা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে মাঠে নেমেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সে দাবির বিপরীতে কপালে জুটেছিল ক্ষমতাসীনদের পেটুয়া বাহিনীর বুলেট, লাঠিচার্জ। দিনে দিনে রক্তাক্ত আন্দোলন রূপ নেয় শেখ হাসিনা সরকারকে পতনের আন্দোলনে।

শত শত মায়ের সন্তান হারানো, বোনের ভাই হারানো, ভাইয়ের বোন হারানো, কোমলমতি শিশুদের বুকে বুলেট পুরে দেওয়ার মতো হৃদয়বিদারক রক্তরঞ্জিত ইতিহাস লেখার মধ্য দিয়ে জুলাই মাসের শেষে ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়।

জুলাই বিপ্লবের মূল সময়টা ছিল ২০২৪ সালের পুরো জুলাই মাস। এই মাসের প্রথম দিনেই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ এবং কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের সূচনা করেছিল দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

দিনটি ছিল সোমবার। মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। কোটা বাতিল করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চার দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী। তারা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবি জানান। জাবিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ছিল-২০১৮ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সংবিধান অনুযায়ী শুধু অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে)।

এছাড়া সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না। কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রসঙ্গত, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২০২৪ সালের ৫ জুন বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা বাতিল করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী। দুপুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কলাভবন, মল চত্বর, ভিসি চত্বর ও টিএসসি হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশে মিলিত হন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘১৮-র হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা প্রথা বাতিল চাই বাতিল চাই’, ‘কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীরা সেদিন বলেন, বর্তমানে শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটার পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও গলাকাটা পোষ্য কোটা দেওয়া হয়েছে। এই পোষ্য কোটার ফলে কর্মচারী শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একটি পরিবারের একজন যেখানে চাকরিতে রয়েছেন, সেখানে অন্যদেরও সেই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার, আপনার বাবা-মা যারা শ্রমজীবী, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ তাদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ-মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। সমাবেশে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে ছাত্রছাত্রীরা চার দফা দাবি জানান। এদিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি রায়সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ-মিছিল নিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৪ দফা দাবি জানান।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট লেখা আছে শুধু পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর জন্যই কোটা থাকবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, আমরা যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করি আমরা নাকি জামায়াত-শিবির করি। কারণ হিসাবে দেখানো হয় আমরা রাষ্ট্রীয় আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। তাহলে আমরা বলতে চাই, যে শিক্ষকরা আজকে প্রত্যয় পেনশন স্কিমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তারাও কি জামায়াত-শিবির করেন? ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হবে। একটা গাড়িও চলবে না এ মহাসড়কে।

দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল ‘মেধাবীদের কান্না আর না আর না’, ‘কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘কোটা প্রথায় নিয়োগ পেলে দুর্নীতি বাড়ে প্রশাসনে’, ‘দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান’ ইত্যাদি। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এদিন দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ববির প্রধান গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এ সময় বক্তারা প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর কোটা বাদে সব কোটা বাতিলের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। এ সময় তারাও ৪টি দাবি উপস্থাপন করেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 

সম্পাদক (ডেমো)

এস এ ফারুক

যোগাযোগ

89/A (3rd floor), Anarkoli Super Market (behind the Mouchak market), 77/1 Shiddheswari Ln, Dhaka 1217

মোবাইল: 01915344418

ই-মেইল: faroque.computer@gmail.com

Design and Development by : webnewsdesign.com